ফিসমিল ও ফিস অয়েলের উৎপাদন হ্রাস, চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা!

আন্তর্জাতিক ফিসমিল ও ফিস অয়েল সংস্থা (IFFO) চিলি, ডেনমার্ক, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ, আইসল্যান্ড, আইভরি কোস্ট, মরিশাস, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, পেরু, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং স্পেনসহ উৎপাদনকারী দেশগুলোর সদস্যদের ফিসমিল ও ফিস অয়েল উৎপাদন ও বিপনন সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত মোট ফিসমিলের প্রায় ৪০% ও ফিস অয়েলের (মাছের তেল) প্রায় ৫০% এই দেশগুলো থেকেই আসে।

fishmeal-fishoil-price-falls

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মৎস্য ও চিংড়ি খাদ্যের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল – ফিসমিল ও ফিস অয়েল এর উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় সব দেশেই হ্রাস পেয়েছে; তবে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং নরওয়ে এর ব্যতিক্রম ছিল।

পেরুর মৎস্য আহরণ হ্রাস পাওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়ার একটি অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। আইএফএফও (IFFO) যা মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে (যেমন: পেরু, চিলি) মাছের পোনা বা ছোট মাছ রক্ষার নীতি নির্ধারণে এরা ভূমিকা রাখে; ইতিবাচক প্রচেষ্টার কথা বললেও, এ বছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদনের মাত্রা গত বছরের তুলনায় কম ছিল।

আইএফএফও (IFFO)জানায় যে, ২০২৬ সালে চীনের অভ্যন্তরীণ সামুদ্রিক উপাদানের উৎপাদন এখনো মন্থর রয়েছে। দেশটির ফিসমিল আমদানি হ্রাস পেলেও সরাসরি মানুষের ব্যবহারের জন্য ফিস অয়েলের আমদানি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চীনের অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষ এবং মৎস্য খাদ্যের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মৎস্য খাদ্যের এই উচ্চ চাহিদা তৈরি হয়েছে মূলত শীতকালীন মজুতকৃত মাছের কারণেই। বর্তমান অবস্থায়, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশেষ করে দক্ষিণ চীনের বাজারে ফিস মিলের চাহিদা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বাড়বে বলে আইএফএফও মনে করছে।

আইএফএফও এর মার্কেট রিসার্চ ডিরেক্টর এনরিকো বাচিস বলেন, “উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অ্যানচোভি (anchovy) মাছের উৎপাদনের মূল্যায়ন বর্তমানে চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন মাছ ধরার মৌসুমের কোটা এবং শুরুর তারিখ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এপ্রিলের প্রথমার্ধে আসতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।”

প্রদীপ কুমার দাম
প্রদীপ কুমার দাম

মৎস্যবিদ প্রদীপ কুমার দাম, একজন একুয়াকালচার এক্সপার্ট। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফিসারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিন থেকে ফিসারিজ বিষয়ে বিএসসি (সম্মান) এবং ফিস জেনেটিক্স এন্ড বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার প্রায় ১২ বছরের অধিক সময় ধরে মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন পরিসরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সহকারী পরিচালক/সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার পদে মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ এ কর্মরত আছেন।