কক্সবাজারে যাত্রা শুরু করল মৎস্য সেক্টরের প্রথম “সেন্টার অব এক্সিলেন্স”

নেদারল্যান্ডসের প্রাণী খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান De Heus, পরামর্শক সংস্থা Larive International এবং Viqon Water Solutions – এর সাথে সম্মিলিতভাবে FoodTechBangladesh প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের মৎস্য ও চিংড়ি খাতে বিনিয়োগ করছে। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই উদ্যোগে যৌথ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭০ লক্ষ ইউরো, যার সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সেন্টার অব এক্সিলেন্স

চিত্রসত্ত্বঃ Larive International

২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, কক্সবাজারে De Heus এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান FishTech Ltd. একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ উদ্বোধন করে। এই কেন্দ্রে একটি আধুনিক IPRS (In Pond Raceway System) স্থাপন করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে এই ধরনের অবকাঠামোর মধ্যে বৃহত্তম এবং সম্পূর্ণ সৌরশক্তি চালিত একটি প্রকল্প। এই প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমানসম্পন্ন মাছ ও বাগদা চিংড়ি উৎপাদন এবং স্থানীয় খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হবে। এটি পরিকল্পিত চারটি প্রদর্শনী সাইটের মধ্যে অন্যতম, যার মাধ্যমে সর্বমোট ১,৮০০ জন মৎস্য ও বাগদা চিংড়ি খামারিকে আধুনিক ও টেকসই ডাচ চাষ প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা হবে।

De Heus, ভিয়েতনাম ও এশিয়ার সিইও Johan van de Ban এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে উচ্চমানের মৎস্য পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং উচ্চ গুনগতমান সম্পন্ন  মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদনের উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা। এটি ডাচ এবং বাংলাদেশি অংশীজনদের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রতিফলন। কক্সবাজারে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।”

ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত সম্মানিত Joris van Bommel এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার যৌথভাবে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

রাষ্ট্রদূত Joris van Bommel বলেন, “নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ ধরনের সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বপূর্ণ উদ্যোগ মৎস্য খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং জ্ঞানের বিনিময়কে ত্বরান্বিত করে।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, “আমরা খামারি ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সেন্টার অব এক্সিলেন্স সংশ্লিষ্ট খাতের উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবনে মৎস্য ও চিংড়ি খামারিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ছয় বছর মেয়াদী FoodTechBangladesh প্রোগ্রামটি পরিচালনা করছে Larive International, যারা ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কেনিয়া, উগান্ডা এবং পূর্ব ইউরোপে এ ধরনের সফল অংশীদারিত্বমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে।Larive International এর সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার Rogier Becker মন্তব্য করেন, “উভয় দেশের মৎস্য খাতের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে মাছ ও চিংড়ি চাষে সহযোগিতার মাত্রা গভীরতর করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে আমরা পরিক্ষিত চাষ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছি এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি।”

প্রদীপ কুমার দাম
প্রদীপ কুমার দাম

মৎস্যবিদ প্রদীপ কুমার দাম, একজন একুয়াকালচার এক্সপার্ট। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফিসারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিন থেকে ফিসারিজ বিষয়ে বিএসসি (সম্মান) এবং ফিস জেনেটিক্স এন্ড বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার প্রায় ১২ বছরের অধিক সময় ধরে মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন পরিসরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সহকারী পরিচালক/সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার পদে মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ এ কর্মরত আছেন।